1
1ফর্সা হতে চান…? তবে আপনার জন্যই কিছু কথা।
বিখ্যাত সেই অ্যাড টা তো সবাই দেখেছেন…… ঐ যে, ‘ফ্রেশ মানেই সুন্দর…’ একবিংশ শতাব্দীতে আসার পরেও উপমহাদেশের racist ( আর কোন ভদ্র উপাখ্যান খুঁজে পেলাম না) মনোভাবের গালে কড়া চপেটাঘাত করেছিল এই বিজ্ঞাপনটি। আমরা আজও নিজের কালো মেয়ে অথবা ছেলেটার গায়ের রঙ নিয়ে কপাল চাপড়াই। রাস্তায় কালো মানুষটাকে নিয়ে হাসা হাসি করি আর দেয়ালের আয়নায় তাকিয়ে রাজ্যের ক্রিম মুখে ঘষি, মনে গোপন আশা – ‘ইশ… আর একটু ফর্সা যদি হতাম!’
পাঠক যেখানে নিজের চোখে কাউকে ‘ধবধবে ফর্সা’ হয়ে যেতে দেখেছেন! হোক সেই ক্রিমের গায়ে কোন উপাদান লেখা নেই, আবার কোন কোনটায় নামও লেখা থাকে না। (জিঞ্জিরা প্রডাকশন) আবার ছোটবেলা থেকে বারবার শুনেছেন যে এই সব প্রোডাক্টে যে সব উপাদান থাকে তাতে স্কিন ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তারপরও ‘ধবধবে ফর্সা’ রঙের মোহে ঠিকই কিনে বসে আছেন। এখন প্রশ্ন করে লাভ কী? আমি জানি ঐ প্রোডাক্ট আপনি ব্যবহার করবেনই।
আজকের লেখার উদ্দেশ্য আপনাদের রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের আসল উপাদান গুলোর সাথে কম কথায় পরিচয় করিয়ে দেয়া। আপনাদের বলতে পারতাম কোন ক্রিম কেনার সময় উপাদান দেখে কিনবেন, কিন্তু জানি বেশিরভাগ মানুষেরই কষ্ট করে উপাদান পড়ার ধৈর্য থাকে না। আর আমাদের দেশের কোন রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলোর গায়ে উপাদান লেখার বালাই থাকে না। তারপরও আপনার মনে যদি কোন ছোট কৌটায় ভর্তি ক্রিম যেটা ব্যবহার করে আপনার পাশের বাসার একজন এক সপ্তাহে দুধে আলতা হয়ে গেছেন সেটা কেনার সুপ্ত বাসনা থাকে তবে একটু কষ্ট করে নিচের পয়েন্ট গুলো পড়ে নিন-
নিচের উপাদানগুলো আমাদের উপমহাদেশের রঙ ফর্সাকারী ক্রিম গুলোর প্রধান উপাদান।

১। পারদ (Mercury)
গায়ের রঙ ফর্সা করার হিরো! পারদের বিষে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যায় মৃত্যুর সময় তাদের গায়ের রঙ থাকে একদম সাদা! ঠিক যেমনটা বাংলার মানুষ ভালোবাসে! আর তাই ফেয়ারনেস ক্রিমেও এতো কার্যকরী আর সহজলভ্য উপাদানের উদার ব্যবহার লক্ষণীয়! আসুন দেখি পারদের গুণাবলি-
২। হাইড্রোকুইনন (Hydroquinone )
৩। STEROIDS
রোদে পোড়া দাগ দূর করার জন্য কিছু সেইফ উপাদান-
রোদে পোড়া ভাব বা ট্যান দূর করা গায়ের রঙ ফর্সা করা থেকে খুবই আলাদা। এক্ষেত্রে আপনি কখনই আপনার জন্মগত রঙ থেকে ফর্সা হতে পারবেন না। নিচে জানাচ্ছি কিছু নিরাপদ উপাদানের নাম যা বিভিন্ন ন্যাচারাল সোর্স থেকেও পাওয়া যায়। এগুলো ট্যান কাটাতে সাহায্য করে –
১। ভিটামিন সি
২। ভিটামিন এ
৩। আরবুটিন (ARBUTIN)
৪। আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিড (ALPHA HYDROXYL ACID)
কেন আপনি সুন্দর হবেন না? অবশ্যই হবেন। কিন্তু অন্তত নিজের চোখ কান খোলা রাখুন। আপনি আমার এই লেখা যখন পড়তে পাড়ছেন তার মানে আপনার হাতে আছে ইন্টারনেট! একবিংশ শতাব্দীর সুপার পাওয়ার। এখনও যদি আপনি অন্য মানুষের শোনা কথা বিশ্বাস করেন তবে ফেয়ারনেস ক্রিমের যুগ শেষ হতে আরও শত বছর লেগে যাবে। আর যুগ যুগ ধরে বাদামি বাঙ্গালির সাহেব মেমদের মত ফর্সা হবার সাধ কোনদিন মিটবে না।