1
1অনেককেই গর্ব করে বলতে দেখা যায়- “আমি একদমই মিথ্যা বলি না”। এই কথাটিই আসলে অনেক বড় এক মিথ্যা। কেননা বিজ্ঞান বলে বর্তমান যুগের কোন মানুষের পক্ষে শতভাগ সত্যবাদী হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। সত্য যত সহজ আর সরল, মিথ্যা ততটাই রহস্যময় আর প্যাচালো। না একে ধরা যায়, না মিথ্যাকে নিখুঁতভাবে নির্ণয় করার কোন ব্যবস্থা আছে। আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই মিথ্যা। চলুন, আজ জানি এই মিথ্যা সম্পর্কে ৫ টি চরম সত্য কথা যা আপনি জানেন না।
কিছু লক্ষনের কথা আমরা অনেকেই জানি। যেমন, মিথ্যাবাদীরা একই কথা বার বার বলতে থাকে, তাঁরা চোখে চোখ রেখে কথা বলে না ইত্যাদি। কিন্তু এসব কোনটাই ১০০ ভাগ সঠিক নয়। একজন নার্ভাস মানুষ সত্য কথাকেই বারবার বলতে পারেন। আবার কঠিন ধরণের মিথ্যুক চোখে চোখ রেখেও মিথ্যা বলে ফেলতে পারেন।
এই মেশি হার্ট বিট নির্ণয়ের মাধ্যমে সাধারণত মিথ্যা বলে। ধরে নেয়া হয় যে মিথ্যা বলার সময় হৃৎস্পন্দন বদলে যায় বা দ্রুত হয়ে যায়। কিন্তু কেউ যদি নার্ভাস বা চিন্তিত থাকেন, জবাব দেয়ার সময় তাঁরও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
মিথ্যা বা ধোঁকা মানব সভ্যতার শুরু থেকেই ছিল। যখন থেকে মানুষ নিজের স্বার্থ বুঝতে শিখেছে বা অন্যের ক্ষতি করতে শিখেছে, তখন থেকেই মিথ্যার জন্ম।
আপনি কখনোই ১০০ ভাগ নির্ণয় করতে পারবেন না যে কে সত্য কথা বলছেন আর কে মিথ্যা। মিথ্যা ও ধোঁকা নিয়ে সচেতন আপনাকে পুরো জীবনই থাকতে হবে। মানুষ কখনোই মিথ্যা বলা বন্ধ করবে না, কেননা ১০০ ভাগ নিঃস্বার্থ হওয়া কখনোই মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না। মাংস থাকলে মিথ্যাও থাকবে।
“আমি কখনোই মিথ্যা বলি না”- এটি আসলে চরম মিথ্যা কথা। জীবনে একবার হলেও মিথ্যা বলেছেন বা ধোঁকা দিয়েছেন প্রায় সবাই। পার্থক্য কেবল এইখানে যে কেউ বেশী মিথ্যা বলেন কেউ কম। আবার কেউ মিথ্যা বলে ধরা পড়েন, কেউ পড়েন না। কিন্তু মিথ্যা আসলে সবাই বলেন।