1
1
নিজস্ব প্রতিবেদক, ধূমকেতু ডটকম: নাফাখুম জলপ্রপাত বান্দরবান জেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। নাফাখুম মারমা শব্দ। নাফা অর্থ ‘মাছ’ আর খুম অর্থ ‘জলপ্রপাত’। রেমাক্রি নদীতে এক ধরনের মাছ পাওয়া যায়, যার নাম নাফা মাছ। এই মাছ সবসময় স্রোতের ঠিক বিপরীত দিকে চলে। বিপরীত দিকে চলতে চলতে মাছগুলো যখন লাফিয়ে ঝর্ণা পার হতে যায় ঠিক তখনই আদিবাসীরা লাফিয়ে ওঠা মাছগুলোকে জাল বা কাপড় দিয়ে ধরে ফেলে। এ থেকে এই ঝর্ণার নাম দেওয়া হয়েছে নাফাখুম ঝর্ণা। এটি বাংলাদেশের আমিয়াখুম জলপ্রপাতের পরই দ্বিতীয় বড় জলপ্রপাত হিসেবে ধরা হয়। অনিন্দ্য সুন্দর এই জলপ্রপাতটি রেমাক্রি থেকে মাত্র আড়াই ঘন্টা হাঁটার পথ দূরত্বে অবস্থিত।
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। রেমাক্রি একটি মারমা অধ্যুষিত এলাকা। বান্দরবান হতে ৭৯ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত থানচি। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত থানচি বাজার। এই সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রির দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয় নৌকা বেয়ে। কারণ নদীটি রেমাক্রি হতে থানচির দিকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে এসেছে এবং এ জন্য এখানে অনেক স্রোত থাকে।
নদীর কিছুদূর পর পর ১-২ ফুট এমনকি কোথাও কোথাও ৪/৫ ফুট পর্যন্ত ঢালু হয়ে নিচে নেমেছে। নদীর দুপাশে সবুজে মোড়ানো উঁচু উঁচু পাহাড় রয়েছে। কোনো কোনো পাহাড় এতই উঁচু যে তার চূড়া ঢেকে থাকে মেঘের আস্তরে। সবুজে ঘেরা সে পাহাড়ে মাঝে মাঝে দু-একটি আদিবাসীদের বসতঘর দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালুতে টিন আর বেড়ার ঘরগুলো মারমা ভাষায় বলে ‘খুম’ । মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ দূরত্বে এই জলপ্রপাত। প্রাণ জুড়িয়ে যাবার মতো জায়গাটিতে চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন।
সৌজন্যে: স্টোরিটেলার (Storyteller)
দেখুন ভিডিওটি: