Popular Posts

ছোট্ট আফগান বালিকার ময়না পাখি এখন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের কাছে

ডেস্ক রিপোর্ট, ধূমকেতু ডটকম: ছোট্ট এক পোষা ময়না পাখি জুজি। তাকে অত্যন্ত আদরে আগলে রেখেছিল আফগান বালিকা আলিয়া। গড়ে উঠেছিল দৃঢ় এক বন্ধুত্ব। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হলো দুজনকে।

তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা দখলে নেওয়ার পর কাবুল ছাড়তে বাধ্য হয় আলিয়ার পরিবার। প্রথমে কাবুল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আরেকটি ফ্লাইটে ফ্রান্সের প্যারিসে পাড়ি দেয় তারা। তবে বিমানে ওঠার আগে বাধে বিপত্তি। আবুধাবি থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় জুজির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয় আলিয়াকে। ইচ্ছা থাকলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মের প্রতিবন্ধকতায় জুজিকে বিমানে তোলার অনুমতি পায়নি সে।

আলিয়ার কষ্ট বুঝতে পেরে এগিয়ে আসেন আবুধাবিতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেভিয়ার চ্যাটেল। জুজিকে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানেই নতুন আশ্রয় খুঁজে পায় জুজির ময়না পাখিটি। আস্তে আস্তে ফরাসি শব্দও শিখতে শুরু করেছে সে। জেভিয়ার চ্যাটেল কথা দিয়েছেন, আলিয়া আর জুজিকে আবারও একত্র করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

তালেবান কাবুল দখলে নেয় গত ১৫ আগস্ট। ১৪ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আফগানিস্তান থেকে বিমানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ২ হাজার ৬০০ আফগানকে বিশেষ ফ্লাইটে ফ্রান্সে সরিয়ে নেওয়া হয়। তেমনই একটি ফ্লাইটে জায়গা হয় আলিয়ার পরিবারের।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেভিয়ার চ্যাটেল টুইটে বলেন, আল দাফরা বিমানঘাঁটিতে ছোট্ট একটি মেয়েকে ময়না পাখি নিয়ে আসতে দেখেন তিনি। মেয়েটি ভীষণ ক্লান্ত ছিল। পাখিটি সঙ্গে থাকায় কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশে অনেকেই তাকে বাধা দেয়। তবু হাল ছাড়েনি আলিয়া। পাখিটিকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না—এমন কথা শুনে আলিয়া কাঁদতে শুরু করে। চ্যাটেল বলেন, তিনি আলিয়াকে কথা দেন পাখিটিকে বাসায় নিয়ে যাবেন। যত্ন নেবেন। আলিয়াকে এমনও বলেন, সে চাইলে যেকোনো সময় জুজিকে দেখতে আসতে পারে।

আলিয়াকে দেওয়া কথা রেখেছেন জেভিয়ার চ্যাটেল। পাখিটির জন্য একটি খাঁচা কিনেছেন। নিয়ম করে তাকে খাওয়ান। সকালে তাকে বাইরে বেড়াতেও নিয়ে যান তিনি, যেন জুজির সঙ্গে অন্য পাখিদের দেখা হয়। চ্যাটেল বলেন, ‘জুজি ধীরে ধীরে পোষ মানতে লাগল, অনেক কথা বলতে শুরু করল। যে ভাষায় ও কথাগুলো বলত, তা আমাদের বোধগম্য ছিল না।’

মানুষের ভাষা অবিকল অনুকরণের সক্ষমতার জন্য ময়না পাখি খুব পরিচিত। সে কথা চ্যাটেলেরও জানা আছে। এ জন্য জুজিকে কিছু ফরাসি ভাষা শেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি। প্রথমেই তিনি শিখিয়েছেন ‘বনজোর’ শব্দটি। এর অর্থ হলো ‘হ্যালো’।

জুজিকে লালন–পালনের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত চ্যাটেল। বলেন, পুরুষদের পছন্দ করত না জুজি। ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাত। তবে নারীদের দেখলে সে খুশি হতো। ধীরে ধীরে পাখিটি পোষ মানতে শুরু করে।

জেভিয়ার চ্যাটেল জানান, আলিয়া প্যারিস থেকে নিয়মিত পাখিটির খোঁজখবর নিচ্ছে। তার আদরের পাখিটি এতটা যত্নে আছে জেনে সে খুব আনন্দিত।

আলিয়ার উদ্দেশে চ্যাটেল টুইটে বলেন, ‘আলিয়া, দূতাবাসের সবাই মনে করে তোমার পাখিটি সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। তবে ও তোমার কাছেই ফিরে যাবে। আমি নিজেই ওকে তোমার কাছে নিয়ে যাব।’

আরো পড়ুন:

ট্রেন চলে গেলে জাহাজের জন্য উপরে উঠে যাবে রেলপথ!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *