Popular Posts

পোশাক রপ্তানিতে আবার ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধূমকেতু ডটকম: বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে আবার ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যানে ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার বেশি। চলতি বছর শেষে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ভিয়েতনামের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর কয়েক দফা লকডাউনে মোট ৬৫ দিন পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকে। এ সুযোগে ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যায়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা হারায় বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০০ কোটি ডলারের পোশাক বেশি রপ্তানি করে ভিয়েতনাম। ওই বছর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের এ পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং ভিয়েতনামের ট্রেড প্রমোশন কাউন্সিলের (ভিয়েট্রেড) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ এক হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬৮৬ কোটি ডলার।

তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় পরিমাণে বেশি রপ্তানি হলেও এখনই তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশ বলা যাচ্ছে না বাংলাদেশকে। ডব্লিউটিও সদস্য সব দেশের বাণিজ্য পর্যালোচনায় বিভিন্ন দেশের বছরওয়ারি অবস্থানের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। ওই হিসাব থেকেই বোঝা যাবে বাংলাদেশের অবস্থান।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, চলতি পঞ্জিকা বছর শেষে ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন বাংলাদেশের পক্ষেই আসবে। বছর শেষে ভিয়েতনামের তুলনায় কমপক্ষে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি থাকবে বাংলাদেশের। তার যুক্তি, উদ্যোক্তাদের হাতে প্রচুর রপ্তানি আদেশ। দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে সংস্কার উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের শিল্প পরিবেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। গত বছর ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারকের মর্যাদা হারানোর কারণ সম্পর্কে শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, করোনায় দফায় দফায় লকডাউনের কারণে দেশের পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ ছিল। ভিয়েতনাম সে সময়ে একতরফা ব্যবসা করেছে।

বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি উন্নয়ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৮৬ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের এ পরিমাণ ছিল ২৬৬ কোটি ডলার। পরের মাসে ব্যবধান আরও বাড়ে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ২৬৩ কোটি ডলারের বিপরীতে ভিয়েতনামের এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাসটিতে ভিয়েতনামের রপ্তানি বাংলাদেশের অর্ধেক। মার্চে অবশ্য ভিয়েতনাম এগিয়ে যায় সামান্য ব্যবধানে। এপ্রিলে আবারও ভিয়েতনামের দ্বিগুণ দাঁড়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি। সর্বশেষ জুলাই পর্যন্ত সাত মাসের পরিসংখ্যানে মোট রপ্তানিতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন:

রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ || সম্ভব হলো যেভাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *