প্রচ্ছদ

রাধাকানাইয়ে ইউপি নির্বাচনে জয় লাভ করলেন ‘ফিলিপাইনি নারী’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধূমকেতু বাংলা: গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত আসনে সদস্য পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন জেসমিন আকতার জুলহাস নামের ফিলিপাইনি বংশোদ্ভূত এক নারী। নির্বাচিত হওয়ার পর মানুষের ভিড় বেড়েছে তার বাড়িতে। বিশেষ করে বিদেশি বংশোদ্ভূত এই নারীকে এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই।

জানা যায়, উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের জুলহাস মিয়া ১০ বছর আগে গিয়ে ছিলেন সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরে এক কোম্পানিতে কাজ করার সময় পরিচয় হয় জীন ক্যাটামিন প্রেট্রিয়াকা নামের ফিলিপাইনি এই নারীর সঙ্গে। সেখানেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জুলহাস ২০১০ সালে দেশে ফিরে এসে প্রেমের টানে যান ফিলিপাইনে। সেখানেই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় তাদের। ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত ঐ ফিলিপাইনি মহিলার নাম রাখা হয় জেসমিন আকতার জুলহাস। পরে স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন জেসমিন। দেশে এসে বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিকত্বও পেয়ে যান তিনি। তাদের সংসারে রয়েছে জাহিদুল ইসলাম জিহাদ (৯) ও ফারিয়া আকতার শিউনা (৭) নামের দুই সন্তান।

বিদেশী হওয়ার পরও গ্রামের সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে জেসমিনের। সেখান থেকে জনসেবার স্বপ্ন দেখেন তিনি। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত গত ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাধাকানাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত আসনে মাইক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে ৪ হাজার ৪৯৬ ভোট পান তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোছা. শিমু আকতার বক প্রতীকে পান ১ হাজার ৮শ ৩৭ ভোট।

জেসমিন আকতার জুলহাস বলেন, মানুষের ভালবাসায় আমি অভিভূত। মানুষ আমাকে যেমন ভালবাসা দিয়েছে আমিও মানুষকে তেমন ভাল কাজ উপহার দিব। জনসেবা করে বাকী জীবন তাদের সঙ্গে থেকে কাটিয়ে দিতে চাই।

জেসমিনের স্বামী জুলহাস মিয়া বলেন, বিদেশিনী হলেও তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারেন। জনসেবা করা তার বড় ইচ্ছা। আমি তার জনসেবার কাজে বেশ আগ্রহী। প্রতিদিন তাকে দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে বাড়িতে ভিড় করছেন। তিনিও সবাইকে সময় দিচ্ছেন।

আরো পড়ুন:

নওগাঁয় এই প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান হলেন দুই নারী

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *