1
1
অনেক মানুষই আছেন যাদের মেজাজ একটু বেশীই চড়া, রাগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন না। বদমেজাজি হিসেবে বেশ পরিচিত। আবার অনেকে এমনও আছেন যাদের সহসা রাগ উঠে না, কিন্তু একবার উঠে গেলে রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যে যেমনই রাগী মানুষ হোন না কেন রাগ এমন একটি জিনিস যা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভালো। কারণ রাগের কারণে মানুষ এমন সব কাজ করে বসেন যার ফলাফল পরবর্তীতে খুব খারাপ হয়ে যায়। এবং এর প্রভাব তার নিজের উপরেও পড়ে। তাই রেগে গেলে কিছু কাজ একেবারেই করবেন না। কারণ আপনার করা কাজগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব আপনার ও আপনার আশেপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
রাগ করে ঘুমাতে যাওয়ার মতো ভুল কাজটি করবেন না একেবারেই। জার্নাল অফ নিউরোসাইন্সের একটি গবেষণায় প্রকাশ পায়, ‘রাগ করে ঘুমাতে গেলে এই নেতিবাচক বিষয়টি একেবারে গেঁথে যায়, যা পরবর্তীতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে’। তাই রাগ উঠলে রাগ কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
রাগ উঠলে আমাদের সেন্স কাজ করা একেবারেই বন্ধ করে দেয়। আর এই সময় গাড়ি চালানোর মতো কাজটি আপনার এবং অন্যান্য মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অনেকেই রাগ উঠার সাথে সাথে আশেপাশের জিনিস বা মানুষের উপর রাগ ঝেড়ে ফেলেন। কিন্তু জার্নাল সাইবারসাইকোলজি, বিহেভিয়ার অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায় তাৎক্ষণিক ভাবে রাগ ঝাড়ার বিষয়টি রাগের মাত্রা আরও বাড়ায় দিনকে দিন। কমায় না। রাগ না ঝেড়ে নিজের মন থেকে তা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করুন।
অনেকেই আছেন রাগ উঠলে খাবার খেয়ে কমানোর চেষ্টা করেন। এতে দুটি বিষয় ঘটে প্রথমত রাগের সময় যা খাচ্ছেন সবই অস্বাস্থ্যকর খাদ্য যা আপনার দেহের ক্ষতি করছে এবং দ্বিতীয়ত, রাগের কারণে দ্রুত এবং আধ চিবানো খাবার গিলে আপনি নিজেই বিপদে পড়তে পারেন। সুতরাং রাগের সময় খাবার থেকে দূরে থাকুন।
রাগের মাথায় কখনোই তর্ক চালিয়ে যাবেন না। কারণ এতে আপনার রাগ আরও বাড়তে থাকবে এবং আপনি এমন কোনো কথা হয়তো বলে ফেলতে পারেন সামনের মানুষটিকে যা তাকে গুরুতর আঘাত করতে পারে।
এমন অনেকেই আছেন যারা রাগ উঠলে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন, অর্থাৎ ঘুমের ঔষধ খাওয়া, হাত পা কাটা ইত্যাদি ধরণের কাজ করেন। এই কাজগুলো কখনোই করবেন না। এসব কাজ করে কোনো ভাবেই আপনার রাগ কমবে না বরং আপনার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটবে।