ধূমকেতু রিপোর্ট : দেশে এক বছরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। যদিও আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে পণ্যটি বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।
উচ্চ শুল্ক ও দাম বেশি হওয়ার কারণে গত বছর মোটরসাইকেলের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে দেশে মোটরসাইকেল বিপণন হয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার, যেখানে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার।
অর্থাৎ গত বছর দেশে মোটরসাইকেলের বাজার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ (প্রায়)। অন্যদিকে ২০১৬ সালে বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ৭০ হাজার।
সে হিসেবে ২০১৭ সালে দেশে পণ্যটি বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ সালে ২ লাখ ১২ হাজার ও ২০১৫ সালে ১ লাখ ৯৬ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল।
ব্র্যান্ডভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাজাজ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের টিভিএস ব্র্যান্ড। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে হিরো ও হোন্ডা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে পরিপূর্ণভাবে সংযোজিত (সিবিইউ) মোটরসাইকেল আমদানিতে সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।
অন্যদিকে সম্পূর্ণরূপে বিযুক্ত (সিকেডি) মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে ৪৫ শতাংশ। অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারের (অন্য প্রতিষ্ঠানের বাজারজাতকৃত পার্টসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-ওইএম) ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রায় শূন্য শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে হিরো ও রানার।
দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণদের আগ্রহ, রেমিট্যান্সের প্রভাব, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মোটরসাইকেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ফা হ আনসারী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যুবকদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার যে ভিশন নিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে মোটরসাইকেল।
কিন্তু যানবাহনটিকে বিলাসদ্রব্য বিবেচনা করে উচ্চহারে শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে তা কিছুটা হলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে দেশে পণ্যটির যে হারে বাজার সম্প্রসারণ হওয়া প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে না।
প্রতিবেশী দেশগুলোয় যেখানে প্রতি হাজারে পাঁচ-ছয়জন মোটরসাইকেল ক্রয় করছে, সেখানে বাংলাদেশে এ হার হাজারে একজনের কাছাকাছি। মোটরসাইকেলকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে শুল্কহার সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে।
গুণগত মানসম্পন্ন মোটরসাইকেল উৎপাদনকারীদের যেমন সুবিধা দেয়া প্রয়োজন, তেমনি আমদানিকারকদের শুল্ক বাধা অপসারণ করে এ দুয়ের মধ্যকার গ্যাপও আরো কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে বাজার আরো সম্প্রসারণ হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রয়মূল্যের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম পড়ে সবচেয়ে বেশি।
দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সরকার বাহনটির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কিছুটা কমিয়েছে। তবে মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হলে বিভিন্ন সহযোগী শিল্পকে আগে উন্নত করতে হয়, যার অভাব রয়েছে।
ইঞ্জিন থেকে শুরু করে চেইন, সিটকভার, যন্ত্রাংশের মতো অনেক কিছু উৎপাদনের প্রয়োজন পড়ে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে না উঠলে দেশী শিল্প হিসেবে মোটরসাইকেলের বিকাশ ঘটাতে হিমশিম খেতে হবে।