Popular Posts

আন্তর্জাতিক সীমান্তে সন্তানের জন্ম, নাম রাখলেন ‘বর্ডার’

ডেস্ক রিপোর্ট, ধূমকেতু বাংলা: ভারত-পাকিস্তানের আত্তারি-ওয়াঘা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ভারতীয় দিকে (আত্তারি) সন্তানের জন্ম দিলেন এক পাকিস্তানি নারী। সদ্যজাত সন্তানের নাম রেখেছেন ‘বর্ডার’। গত ৭১ দিন ধরে আত্তারি সীমান্তে আটকা পড়ে আছেন ওই পাকিস্তানি নারীসহ আরও ৯৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক। যার মধ্যে ৪৭ জনই শিশু আবার এদের মধ্যে ৬ জনের বয়স মাত্র এক বছর।

পাকিস্তানি দম্পতি বালাম রাম এবং তার স্ত্রী নিম্বু বাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনপুর জেলার বাসিন্দা। গত ২ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় নিম্বু বাই’এর। এসময় পাঞ্জাবের পাশ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা নিম্বু বাই’কে সহায়তা করার জন্য সেখানে পৌঁছায়। স্থানীয়রা যাবতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থারও জোগান দেয়।

বালাম রাম জানান লকডাউনের আগে তাকে নিয়ে মোট ৯৮ জন পাকিস্তানি নাগরিক তীর্থ করতে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসেন। এছাড়াও ভারতে অবস্থান করা আত্মীয় পরিজনদের সাথেও দেখা করেন তারা। কিন্তু ভারত ভ্রমণের পর নিজেদের দেশে ফেরত যাওয়ার সময় বিপত্তিতে পড়েন তারা কারণ তাদের কারো কাছেই দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় নথি ছিল না। ফলে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরেই আত্তারি আন্তর্জাতিক সীমান্তে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

আত্তারি সীমান্তে আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিক মোহন এবং সুন্দর দাসেরাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাকিস্তানের রহিম এবং রাজনপুরের বাসিন্দা মোহন এবং সুন্দরকে পাকিস্তান সরকার ফিরিয়ে না নেওয়ার জন্য তাদেরও দিন কাটাতে হচ্ছে আত্তারি সীমান্তে।

আত্তারি আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুসংহত চেক পোস্ট (আইসিপি)-এর কাছে কার পার্কিং এরিয়ায় তাবু টাঙিয়ে বর্তমানে দিন কাটাচ্ছেন তারা। আর স্থানীয় বাসিন্দারাই দিনে তিন বেলা খাবার, ওষুধ এবং পোশাক সরবরাহ করে আসছে।

বালম রামের সাথে একই তাবুতে অবস্থান করা আরো এক পাকিস্তানি নাগরিক নিজের সন্তানের নাম রাখেন ‘ভারত’। লজ্ঞ্য রাম নামে ওই পাকিস্তানি নাগরিক গত ২০২০ সালের যোধপুরে নিজের ভাইয়ের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে তিনিও পাকিস্তানে ফেরত যেতে পারেননি। পরে ভারতে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাম রাখেন ‘ভারত’।

আরো পড়ুন:

দুবাইয়ের রাস্তায় ‘জাদুর কার্পেট’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *