কৃষি-মৎস্য

আগাম আলুচাষ ভাগ্য খুলেছে নীলফামারীর চাষিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধূমকেতু ডটকম: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আউশ ধান কাটা মাড়াই শেষে এখন আগাম আলুচাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কেটে মাঠের পর মাঠ সেভেন জাতের আলুসহ, সাকিতা, কারেজ ও জামপ্লাস আলু রোপণ করছেন এখানকার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জতিতে আগাম আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা, মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ বপনের কাজ চলছে। আলু রোপণকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায় মাঠজুড়ে।

উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামে দেখা যায় ওই গ্রামের শামীম হোসেন বাবু এবার ২৫ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপন করছে। এই কৃষক জানান, মঙ্গা তাড়ানো সল্প সময়ে আউশ ও আগাম আমন ধান কাটাই মাড়াই শেষে এখন আলুর বীজ রোপন করছেন। এই আলু ৫৫ দিনেই উঠবে। গত বছর তিনি ২১ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। এই আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছিল তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করেন ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকার। এতে তার খরচ বাদে লাভ হয় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আলুচাষি আকবর আলী ও রতন আলী জানান, গত বছর আগাম ধান কাটার পর ৬ বিঘা জমির আলু উত্তোলন করে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে খরচ বাদে ৩ গুণ টাকা লাভ করেছেন। এবার তারা জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১২ বিঘা জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ করছেন। বাহাগিলী গ্রামে আলুচাষি রফিকুল ইসলাম ১৫ বিঘা, সাবিনা বেগম ১০ বিঘা এবং মিলন মিয়া ১৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এ উপজেলার মাটি আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আমরা উপজেলায় এবার ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরলেও এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৭ হাজার হেক্টরে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় চলতি বছরে আউশ ধান ২ হাজার হেক্টরে ও মঙ্গা তাড়ানো স্বল্প সময়ের হাইব্রিট ধান এক হাজার ২০০ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে। সেই জমিতেই কৃষক এখন আগাম আলুচাষ করছে। আমাদের কৃষি অফিস থেকে আগাম আলুচাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, আজ থেকে ১২ বছর আগেও বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় আশ্বিন-কার্তিক অভাবের মাস নামে পরিচিত ছিল। সেদিন এখন আর নেই। গ্রামের কৃষকই বলছেন, ফসলের বহুমূখীকরণ ও আগাম ফসল উৎপাদনে শেখ হাসিনা সরকারের কৃষি বিপ্লব কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন:

দেশে পেঁপের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *