1
1অশ্বগন্ধার উপকারিতা – অশ্বগন্ধা (Ashwagandha) একটি ভেষজ উদ্ভিদ। কয়েকশত শতাব্দী ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এটি। অশ্বগন্ধার বৈজ্ঞানিক নাম Withania somnifera. এটি ভারতসহ, শ্রীলংকা, নেপাল ও মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এর গুনাগুনের কারনে পশ্চিমা বিশ্বেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
মানসিক চাপ ও হতাশা মানুষকে কর্মবিমুখ করে দেয়। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। দুশ্চিন্তা দূর করতে অশ্বগন্ধা কতটা কার্যকর তার উপর একাধিক গবেষনা চালনো হয়। এখনো পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুসারে অশ্বগন্ধা হতাশা কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে অশ্বগন্ধা। অনেক পুরুষই অনুর্বরতা জনিত সমস্যায় ভোগে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা পাউডার সেবন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব। এটি শুক্রাণুর পরিমান বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন বাড়িয়ে যৌন সমস্যা দূর করে।
যেসব ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমানোর প্রয়োজন বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর জন্য অশ্বগন্ধা কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। একাধিক গবেষনায় দেখা যায়, অশ্বগন্ধা দেহে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়।
ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি দমন করতে সক্ষম অশ্বগন্ধা। এটি স্তন,ফুসফুস, কোলন,ব্রেন ক্যান্সারের জন্য প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। এর বায়োএকটিভ উপাদানগুলো ক্যান্সার কোষ গুলোকে মেরে ফেলে এবং নতুন ক্যান্সার কোষ জন্মাতে বাধা দেয়। নিয়মিত অশ্বগন্ধা খাওয়ার অভ্যাস যাদের আছে তাদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে কম।
হার্টের সুস্বাস্থ্য অশ্বগন্ধা বেশ কার্যকর। এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে আনে। সেই সাথে কমে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমানও। যা আপনার বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে। প্রতিদিন নিয়ম করে অশ্বগন্ধা খেলে ১৭% অবধি কোলেস্টেরল এর পরিমান কমানো সম্ভব।
বহুকাল থেকেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ব্যবহার হয়ে আসছে অশ্বগন্ধা। এই ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ আপনার স্মৃতি ধারন ক্ষমতাকেও প্রখর করে। গবেষণা মতে, অশ্বগন্ধা ব্রেনের কাজ করার ক্ষমতা এবং স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি মস্তিষ্কের আলঝাইমার্স এর মত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
প্রাচীনকাল থেকেই সাপের বিষনাশক হিসেকে কাজ করে অশ্বগন্ধা। অশ্বগন্ধা গুঁড়া দিয়ে পেস্ট তৈরি করে সাপে কাটা স্থানে প্রলেপ দিলে বিষ প্রশমিত হয় এবং সাপের বিষ দেহের অন্যত্র ছড়াতেও বাধা দেয়।
অশ্বগন্ধার ভেষজ গুনাবলী শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ফলে সহজেই শরীর যেকোন জীবাণুর সাথে লড়াই করতে সক্ষম। তাই আপনার শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেতে ভুলবেন না।
উত্তেজনা বা হতাশা দূর করে বলে অশ্বগন্ধা আপনাকে পরিমিত ও গভীর ঘুমে সাহায্য করে। এর মধ্যকার উপাদানগুলো ব্রেনে প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। ফলে মানসিক চাপ কমে সুন্দর ঘুম নিশ্চিত করে
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারদর্শী অশ্বগন্ধা। কারণ এতে বিদ্যমান এন্টিঅক্সিডেন্ট গুনাবলী রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। ত্বকে বয়সের চাপ দূর করে এই অসাধারণ উদ্ভিদ। বলিরেখা দূর করে ত্বকের তারুন্য ধরে রাখতে সহায়ক অশ্বগন্ধা। তাই একে এন্টি এজিং হিসেবেও গন্য করা হয়। ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বকের কোমলতা ফিরিয়ে আনে এবং ময়েশ্চারাইজারের অভাব দূর করে।
আয়ূর্বেদ শাস্ত্রে ত্বকের পোড়ায়ও ব্যবহার করতে দেখা যায় অশ্বগন্ধা পাউডার। এর এন্টি-ইনফিলামেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বককের বিভিন্ন সমস্যা নিরাময় করার ক্ষমতা রাখে।
প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে জুরি নেই অশ্বগন্ধার। মধ্যে পানির সরবরাহ বৃদ্ধি করে। ত্বকের ডালনেস দূর করতেও ব্যবহার করতে পারেন অশ্বগন্ধা। এটি ত্বকের সজীবতা ধরে রাখে দীর্ঘক্ষণ।
ত্বকে কোলাজেনের পরিমান বাড়িয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। কোলাজেনের ভালো উৎস হওয়ায় স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে এই জাদুকরী উপাদানটি।
অশ্বগন্ধা মাথার স্ক্যাল্পে রক্তের চলাচল বৃদ্ধি করে। যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি যুগিয়ে চুলকে মজবুত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুল পরা কমে যায়।
যারা নেচারাল হেয়ার টনিক খুঁজছেন তারা নিশ্চিতে ব্যবহার করতে পারেন অশ্বগন্ধা। এটি টনিক হিসেবে দারুন কাজ করে।
অনেকেরই চুলের দো-আগা ও চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকে। অশ্বগন্ধা পাউডার খেলে বা প্যাক হিসেবে চুলে লাগিয়ে পেয়ে যাবেন এই সমস্যার সমাধান।
যদিও প্রমাণিত নয় তবে অনেকেই মনে করেন লম্বা হওয়ার জন্য অশ্বগন্ধা পাউডার বিশেষ উপকারি ।
আয়ুর্বেদের রানী অশ্বগন্ধা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন পুষ্টিকর তেমনি রূপচর্চায়ও এটি বেশ কার্যকর। তাই মানসিক প্রশান্তি থেকে শুরু করে রোগমুক্তি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অশ্বগন্ধার বিকল্প হয় না।
তথ্যসূত্রঃ MyOrganicBD